Free

Text Widget

Monday, March 31, 2014



তথ্য সংরক্ষণের জন্য মানুষ যুগে যুগে বিভিন্ন পদ্ধতি ও মাধ্যম উদ্ভাবন করেছে। প্রথমে মুখস্থ করে, এরপর চিত্র ও লেখার সাহায্যে। ধীরে ধীরে বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই স্থানে আসে বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য। টেপ রেকর্ডার, সিডি, ডিভিডি ইত্যাদির পরে এখন চলছে ক্লাউড স্টোরেজের যুগ। গত কয়েক দশকে মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণে তথ্য ধারণ ও সংরক্ষণ করে রাখার ক্ষমতা অর্জন করলেও এখনো অনেক দীর্ঘ সময়ের জন্য তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার খুব কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি।কিন্তু এবার তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার জন্য বিজ্ঞানীরা এমন একটি ডিস্ক উদ্ভাবন করেছেন যেটাকে ধ্বংস করে ফেলা প্রায় অসম্ভব (nearly indestructible ) বলে দাবি করেছেন তারা।
এমনকি এটাকে যদি আগুনে পোড়ানোও হয় তবুও এর কিছু হবে না! গবেষকরা জানান, সফলভাবে তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদী তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে তথ্যের হারিয়ে যাওয়া কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া রোধ করবে।
নেদারল্যান্ডের University of Twente MESA+ Institute for Nanotechnology’র জেরোইন ডি ভ্রিস দেখান যে, এত দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংরক্ষণে সক্ষম ব্যবস্থা গড়ে তোলা আসলেই সম্ভব। তিনি এমন একটি optical information carrier তৈরি করেছেন যেটি ‘ইচিং প্রযুক্তি’ (etching techniques) ব্যবহার করে ‘বিট’ আকারে প্রতিটি তথ্য অনেক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে সক্ষম। আর এই ক্যারিয়ারটি পানি ধারণ করতে সক্ষম টাংস্টেন দিয়ে তৈরি যেটি সিলিকন নাইট্রাইড দিয়ে আবৃত। টাংস্টেন অনেক উচ্চ তাপমাত্রা-প্রতিরোধী। একটি QR কোড টাংস্টেনের ভেতরে ‘ইচ’ বা নকশা করা হয় ও সিলিকন নাইট্রাইড দিয়ে আবৃত করে দেয়া হয়।
তথ্যগুলোর স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তি ভিত্তিক বাধা (energy barrier) প্রয়োজন যেটি তথ্যকে অন্যনান্য জিনিস থেকে পৃথক রাখতে সক্ষম হবে। মিলিয়ন বছর পরে ডিস্কে ধারণ করা তথ্যগুলো অক্ষত রয়েছে কিনা সেটি প্রমাণ করার জন্য এই ‘এনার্জি ব্যারিয়ার’ এর বয়স নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা চালাতে হবে। আরহেনিয়াসের মডেল অনুসরণ করে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
বর্তমানে তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ গুলো প্রচুর তথ্য সংরক্ষণ করতে পারলেও কক্ষ তাপমাত্রায় সেগুলো সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত অক্ষত থাকে। এজন্যই বিকল্প চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখার পরও টাংস্টেনের গায়ে লিখিত কোড পড়া যাচ্ছে। আর এটি থেকেই দীর্ঘ মেয়াদে তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

Posted by Unknown on 1:03 AM  No comments »

0 comments:

Post a Comment

Bookmark Us

Delicious Digg Facebook Favorites More Stumbleupon Twitter

Search